Posts

অব্যাক্ত

Image
১৮৪৮ সাল। সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ । সময় আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪ টা। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে রুটল্যান্ড-বারলিংটন রেলপথ বসানোর কাজ বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছিল। শ্রমিকদের সেই দলে ফোরম্যান হিসাবে নিযুক্ত ছিল ফিনেস গেজ ( Phineas Gage ) । বয়স ২৫ বছর । যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে  রেলপথ নির্মাণের জন্য রাস্তা তৈরি করতে গানপাউডার ব্যাবহার করা হত। সেদিনেও রাস্তা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছিল। কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেল! গানপাউডার চার্জ করার সময় ভুলবশত এক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হলেও সবচেয়ে বেশি আঘাত পান আমাদের পরিচিত ফিনেস গেজ। গানপাউডার চার্জ করার জন্য তার হাতে যে লোহার রডটি (ওজন ছিল প্রায় ১৩.২৫ পাউন্ড!) ছিল সেটা তার বাম গালের উপর দিয়ে মাথার ভেতর প্রবেশ করে! এ ধরনের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যাক্তিরা সাধারনত ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে গেজ বেঁচে যান । এবং ঘটনাস্থল থেকে নিজে উঠে দাড়া ন, তারপর শহরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য কথা বলতে বলতে গাড়িতে উঠে বসেন! (এ পর্যন্ত যদি পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই গাঁজাখুরি গল্প বলে মনে হতে পারে। কিন্তু, হোরেশিও, স্...

ফোকাসলাইট

দূর থেকে তাকালে মনে হবে লোকটি খুব স্বাভাবিক আছে। আর দশটা সাধারন মানুষের মতোই অফিসে বসে আছে। না, বসে নেই। সামনে পড়ে থাকা ফাইলগুলো নিয়ে আছেন। কিন্তু আপনি যদি শার্লক হোমস কিংবা অন্ততপক্ষে তার ভক্ত হলে চলবে, তাহলে আপনার কেন জানি মনে হবে, না , সবকিছু ঠিক নাই! কোথাও কিছু একটা সমস্যা হয়েছে! তবে , সান্তনা এই যে, আপনার শার্লক হোমসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তবে শর্ত প্রযোজ্য! এবং শর্ত হচ্ছে, আপনার আশেপাশে বকরউদ্দিন সাহেবকে থাকতে হবে। তবে বকরউদ্দিন সাহেবের মেজাজটা আজকে বিশেষ ভালো নেই। কারণ, কিছুই না, সকালবেলা অফিসে আসার পর প্রায় পনের মিনিট হতে চলল কিন্তু লোকটির চা খাওয়ার কোন নামগন্ধও নাই। এদিকে আবার তার নিজের চায়ের পিপাসা একশ দুই ডিগ্রিতে পৌছে গেছে। কি যন্ত্রনা! বিশ মিনিট পার হওয়ার পরেও লোকটির চায়ের জন্য কোন হাঁকডাক নেই! না রে ভাই, চায়ের নেশা বড়ই ভয়াবহ! যারা খায় তারা ভালোমতই জানে। না। বকরউদ্দিন সাহেবের পক্ষে আর বসে থাকা সম্ভব নয়। কি ব্যাপ্যার, শরীরটা খারাপ নাকি ? এই কয়েকটা শব্দের প্রভাবে লোকটির যে প্রতিক্রিয়া হল তার পরিমাণটা আর একটু বেশি হলে তার সামনে রাখা পানিপূর্ণ গ্লাসটা আর তার নিজ...

অল্প স্বল্প ছোটগল্প

“পুরাকালে সরস্বতী পুত্র কামনা করিয়া হিমালয়পর্বতে তপস্যা করিয়াছিলেন। সন্তুষ্ঠ মনে ব্রহ্মা তাহাঁকে বলিলেন- ‘আমি তোমার পুত্র সৃষ্টি করিতেছি’। তাহার পর সরস্বতী কাব্যপুরুষকে প্রসব করিলেন।” এটা ছিল কাব্য সৃষ্টির পৌরনিক কাহিনী, কিন্তু কাব্য কাকে বলব? কাব্য কি শুধুমাত্র কিছু শব্দের সংকলক? এটা যেমন বলা যেমন আমার মত মূর্খের পক্ষে মুশকিল , ঠিক তেমনি ছোটগল্প কি কিংবা কাকে বলে সেটাও বলা সমান বিপদের কাজ! সাহিত্যের কোনগুলোকে আমরা ছোটগল্প বলবো ? যে গল্পগুলো আকারে ছোট নাকি যেসব গল্প কম সময়ে পড়ে শেষ করা যায় সেগুলোকে ?   যেমন , ‘ ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সী’খ্যাত লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কথা যদি বলি। তাহলে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প লিখেছিলেন কয় শব্দে? মাত্র ছয়টি শব্দ ব্যাবহার করে! এবং শব্দ গুলো ছিলো , For sale: baby shoes, never worn এদিকে ছোটগল্পের জগতে আরেকজন দিকপাল উইলিয়াম সমারসেট মম, তিনি আবার লিখেছিলেন প্রায় বিশ হাজার শব্দ ব্যাবহার করে! আবার ফ্রাঙ্ক সার্জেসনের সবচেয়ে বড় গল্পটায় রয়েছে ৩২০০০ শব্দ!   শব্দের সংখ্যসংক্রান্ত এই জটিলতা দূর করার জন্য অনেক সাহিত্য বিশ্লেষকের ...

কাছে আসার প্রকৃত গল্প

Image
সারাদিন তো অনেক মানুষকে আপনি-আমি সবাই চোখের সামনে দেখছি, কিন্তু কই সবাইকে তো ভালো লাগে না! আবার কখনো কখনো দিনরাতের সময়জ্ঞান ভুলে সব সময় একজন মানুষের কথা ভাবতেই ভালো লাগছে, তাকে কাছে পাতে চাইছি। কিন্তু কেন? আমরা কারোও প্রতি বেশী আকর্ষণ , কারও প্রতি কম আকর্ষণ এবং কারও প্রতি একদমই আকর্ষণ অনুভব করি না । কেন ? কেন ? The Why? বেরসিক বিজ্ঞানের ভাষায় যদি বলি, তাহলে প্রেম বা ভালোবাসা যেই নামে ডাকা হোক না কেন, এটা হচ্ছে মূলত আমাদের ব্রেইনের থ্যালামাস নামক যে অংশটি রয়েছে তার রাসায়নিক অবস্থা। এই লেখাটিতে ব্রেইনের এইসব রসায়নের পাশাপাশি অন্যান্য কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।   শুরুতেই বিবর্তনবাদ।   এককথায়  বিবর্তনবাদ সম্পর্কে যদি বলি ( এটা কিন্তু আপনি আগে থেকেই জানেন ), আমরা আমাদের বংশধর টিকিয়ে রাখতে চাই। অর্থাৎ আমাদের ডিএনএ তে যে জিন রয়েছে ; আমরা চাইবো যেকোন মূল্যে এই জিন টিকে থাকুক যুগের পর যুগ। আমরা যদি একদম প্রাগৈতিহাসিক যুগে চলে যাই , তাহলে দেখব - সেইসব সময়ে মানুষের কাজ ছিল মূলত দুইটা। এক . খাবার খেয়ে...