Posts

দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয় তবে!

Image
ছোট একটা গল্প বলি। ছোট একটা বাচ্চার গল্প। ছোট বললে কি হবে ততদিনে রীতিমত কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে রোজ স্কুলে যাওয়া-আসা শুরু করে দিয়েছে। ছড়া শুনে, রাইম পড়ে, ছবি আঁকে, গান গায় আরো কত্ত কি। কিছুদিন পরে দেখা গেলো স্কুলের বাংলা, ইংরেজি কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলো আয়ত্তে চলে এলেও ঐ অংকটা জানি তার কাছে কেমন কেমন মনে হচ্ছে। প্রথম প্রথম একটা একটু ভয় ভয় লাগত কিন্তু আস্তে আস্তে দেখা গেলো অংকের নামটা শুনলেও গলাটা কেমন জানি শুকিয়ে আসছে! বুক ধড়ফড় করে! এবার আরেকটা গল্প। মানুষটা কিন্তু আগে থেকে এরকম ছিল না। আগে অন্তত বিয়ে-শাদী, জন্মদিনের মতন অনুষ্ঠানগুলোতে সবার সাথে তেমন একটা কথাবার্তা না বললেও অন্তত যেয়ে চুপচাপ খেয়েদেয়ে চলে আসত। আর এখন যে কি হলো যাওয়া তো দূরের কথা এরকম কিছুতে যেতে হবে শুনলেই যেন পালিয়ে বাঁচে!       স ময়টা ছিল বিহেভিওরিজমের (Behaviorism), কগনেটিভ সাইকোলজি (Cognitive Psychology) তখনো আসি আসি করছে। ‘মন’ নামক রোমান্টিকদের প্রিয় রহস্যময় এই বস্তুটিকে অনেকদিন ধরেই কাঁটাছেড়া চললেও গত আঠারো শতকের শেষের দিকে এই প্রথম ‘মন’কে ল্যাবরেটরির ভেতরে আনা হয়। কিন্তু তখনো সেটা ছিল ...

অ্যাশ'এর কনফর্মিটি এক্সপেরিমেন্ট: আপনার মতামত কতখানি আপনার?

Image
স্ট্যাটিস্টিকস পরীক্ষা। পরীক্ষা দিচ্ছেন, কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আপনি নিজে সন্দিহান। আপনার উত্তরটা সঠিক কিনা বুঝতে পারছেন না! মাথা ঘুরিয়ে আপনার পাশের বন্ধুটির কাছ থেকে উত্তরটি জেনে নিলেন। দেখা গেল তার উত্তরটিও আপনার কাছে সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। এজন্য আপনি আরেকজন বন্ধুর কাছে সেটার উত্তরটা শুনে নিলেন। আপনার এই বন্ধুটিও ঠিক আগের উত্তরটাই দিয়েছে! আপনি তো পড়লেন মহাঝামেলায়! বন্ধুদের দেওয়া উত্তরটি আপনার কাছে সঠিক বলে মনে হচ্ছে না, আবার নিজেরটাও কেমন কেমন জানি মনে হচ্ছে! শেষপর্যন্ত আপনার উত্তরটি কেঁটে দিয়ে খাতায় তাদের উত্তরটাই লিখে দিয়ে আসলেন।  কিন্তু পরে দেখলেন যে আপনার উত্তরটাই ঠিক ছিল! কি নিজেকে আহাম্মক বলে মনে হচ্ছে? বারবার মনে হফফ চ্ছে কেন এই কাজটা করলেন? কেন অন্যদের কথা শুনলেন? কেন?    এমনই কিছু প্রশ্ন হয়ত উঁকি দিয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৬৫ বছর আগে সোয়ার্থমোর কলেজের অধ্যাপক ড. সোলোমন অ্যাশ’এর (Solomon Asch) মনের ভেতরে(তবে তার নিজের বেলায় পরীক্ষার সময় এমন কিছু হয়েছিল কিনা সেটা বলতে পারছি না)। এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যে কাজটি করলেন কালের প্রভাবে সেটি জায়গা করে নিয়ে...

মিলগ্রাম এক্সপেরিমেন্টঃ নির্মমতা কি জন্মগত?

Image
“মহাশয়, আপনি কাহার পক্ষে, যুদ্ধের না শান্তির? বৎস, আমি শান্তির পক্ষে, কারণ শান্তির সময় পুত্র পিতার কবর খনন করিয়া থাকে, আর যুদ্ধের সময় পিতা পুত্রের।” এটা ছিল গ্রীক দার্শনিক হেরাক্লিটাস এবং তার শিষ্যের মধ্যকার কথোপকথন। যুদ্ধ নিয়ে আমরা যতই বলি না কেন, যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা/ যুদ্ধ মানে আমার প্রতি তোমার অবহেলা। তবে একথাকে অস্বীকার করা যাবে না, যুদ্ধের সময় জেনারেলের এক আদেশেই কত হাজার-হাজার নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে!  কুখ্যাত জিউ হলোক্যাষ্ট, কিংবা রুয়ান্ডার গণহত্যা অথবা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশেই যে গণহত্যগুলো হয়েছিল সেগুলোর দিকে নজর দিলে “মানবতা” কিংবা “মানবিকতা” ইত্যাদি শব্দগুলো হারিয়ে যায়। কিভাবে একজন মানুষ হয়ে নির্মমভাবে এতগুলো মানুষকে হত্যা করতে পারে! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় একটি কথা বেশ উচ্চারিত হয়েছিল, যেসকল সৈনিক এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল তারা কেবল উপরওয়ালার হুকুম পালন করেছে মাত্র! তাহলে কি নিজস্ব বিবেক বলি, আর বিবেচনাবোধ যাই বলি না কেন এগুলো কি একসময় কতৃপক্ষের হুকুমের কাছে মাথানত করে ফেলে?...

'ম' তে মোজার্ট এবং আরো কিছু

Image
পুরো নাম উলফগ্যাং অ্যামাদিউস মোজার্ট।  মৃত্যুবরণ করেন  ১৭৯১ সালের দিকে।  হঠাৎ করে  তার মৃত্যুর ২০০ বছর পরে তাকে নিয়ে হুলস্থল শুরু হয়ে গেল!  আসলে এভাবে বলাটা একটু ভুল হয়ে যায়; কেননা মোজার্ট অবশ্যই এতদিন কোনরকমের হেলাফেলার বিষয় ছিল না। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে হইচইটা একটু বেশিই হলো। কিন্তু কেন? বলা হলো, ১৭৮১ সালের দিকে D মেজর স্কেলে কম্পোজ করা সিম্ফনি শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।  মানুষের বুদ্ধিমত্তার উপর মোজার্টের মিউজিকের প্রভাব   “মোজার্ট ইফেক্ট”   নামে পরিচিত। আসলেই? সত্যি? ১৯৯৩ সালে "নেচার" জার্নালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ . রশার এবং তার কয়েকজন সহকর্মী মিলে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। সেখানে তারা দাবি করেন যে, মোজার্ট মিউজিক শোনানোর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিশেষ কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে পারদর্শিতা বৃদ্ধি পায়। "এইত গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। আজকে থেকেই এইসব হরলিক্স, কমপ্ল্যান সব বাদ! শিশুর জন্য শুধুই দিনে তিনবেলা মোজার্ট!" উহ! যদি বলি গবেষণায় পাওয়া গেছে, যারা বাম হাত দিয়ে ডিম খায় ত...

অব্যাক্ত

Image
১৮৪৮ সাল। সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ । সময় আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪ টা। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে রুটল্যান্ড-বারলিংটন রেলপথ বসানোর কাজ বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছিল। শ্রমিকদের সেই দলে ফোরম্যান হিসাবে নিযুক্ত ছিল ফিনেস গেজ ( Phineas Gage ) । বয়স ২৫ বছর । যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে  রেলপথ নির্মাণের জন্য রাস্তা তৈরি করতে গানপাউডার ব্যাবহার করা হত। সেদিনেও রাস্তা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছিল। কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেল! গানপাউডার চার্জ করার সময় ভুলবশত এক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হলেও সবচেয়ে বেশি আঘাত পান আমাদের পরিচিত ফিনেস গেজ। গানপাউডার চার্জ করার জন্য তার হাতে যে লোহার রডটি (ওজন ছিল প্রায় ১৩.২৫ পাউন্ড!) ছিল সেটা তার বাম গালের উপর দিয়ে মাথার ভেতর প্রবেশ করে! এ ধরনের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যাক্তিরা সাধারনত ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে গেজ বেঁচে যান । এবং ঘটনাস্থল থেকে নিজে উঠে দাড়া ন, তারপর শহরে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য কথা বলতে বলতে গাড়িতে উঠে বসেন! (এ পর্যন্ত যদি পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই গাঁজাখুরি গল্প বলে মনে হতে পারে। কিন্তু, হোরেশিও, স্...

ফোকাসলাইট

দূর থেকে তাকালে মনে হবে লোকটি খুব স্বাভাবিক আছে। আর দশটা সাধারন মানুষের মতোই অফিসে বসে আছে। না, বসে নেই। সামনে পড়ে থাকা ফাইলগুলো নিয়ে আছেন। কিন্তু আপনি যদি শার্লক হোমস কিংবা অন্ততপক্ষে তার ভক্ত হলে চলবে, তাহলে আপনার কেন জানি মনে হবে, না , সবকিছু ঠিক নাই! কোথাও কিছু একটা সমস্যা হয়েছে! তবে , সান্তনা এই যে, আপনার শার্লক হোমসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তবে শর্ত প্রযোজ্য! এবং শর্ত হচ্ছে, আপনার আশেপাশে বকরউদ্দিন সাহেবকে থাকতে হবে। তবে বকরউদ্দিন সাহেবের মেজাজটা আজকে বিশেষ ভালো নেই। কারণ, কিছুই না, সকালবেলা অফিসে আসার পর প্রায় পনের মিনিট হতে চলল কিন্তু লোকটির চা খাওয়ার কোন নামগন্ধও নাই। এদিকে আবার তার নিজের চায়ের পিপাসা একশ দুই ডিগ্রিতে পৌছে গেছে। কি যন্ত্রনা! বিশ মিনিট পার হওয়ার পরেও লোকটির চায়ের জন্য কোন হাঁকডাক নেই! না রে ভাই, চায়ের নেশা বড়ই ভয়াবহ! যারা খায় তারা ভালোমতই জানে। না। বকরউদ্দিন সাহেবের পক্ষে আর বসে থাকা সম্ভব নয়। কি ব্যাপ্যার, শরীরটা খারাপ নাকি ? এই কয়েকটা শব্দের প্রভাবে লোকটির যে প্রতিক্রিয়া হল তার পরিমাণটা আর একটু বেশি হলে তার সামনে রাখা পানিপূর্ণ গ্লাসটা আর তার নিজ...

অল্প স্বল্প ছোটগল্প

“পুরাকালে সরস্বতী পুত্র কামনা করিয়া হিমালয়পর্বতে তপস্যা করিয়াছিলেন। সন্তুষ্ঠ মনে ব্রহ্মা তাহাঁকে বলিলেন- ‘আমি তোমার পুত্র সৃষ্টি করিতেছি’। তাহার পর সরস্বতী কাব্যপুরুষকে প্রসব করিলেন।” এটা ছিল কাব্য সৃষ্টির পৌরনিক কাহিনী, কিন্তু কাব্য কাকে বলব? কাব্য কি শুধুমাত্র কিছু শব্দের সংকলক? এটা যেমন বলা যেমন আমার মত মূর্খের পক্ষে মুশকিল , ঠিক তেমনি ছোটগল্প কি কিংবা কাকে বলে সেটাও বলা সমান বিপদের কাজ! সাহিত্যের কোনগুলোকে আমরা ছোটগল্প বলবো ? যে গল্পগুলো আকারে ছোট নাকি যেসব গল্প কম সময়ে পড়ে শেষ করা যায় সেগুলোকে ?   যেমন , ‘ ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সী’খ্যাত লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কথা যদি বলি। তাহলে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প লিখেছিলেন কয় শব্দে? মাত্র ছয়টি শব্দ ব্যাবহার করে! এবং শব্দ গুলো ছিলো , For sale: baby shoes, never worn এদিকে ছোটগল্পের জগতে আরেকজন দিকপাল উইলিয়াম সমারসেট মম, তিনি আবার লিখেছিলেন প্রায় বিশ হাজার শব্দ ব্যাবহার করে! আবার ফ্রাঙ্ক সার্জেসনের সবচেয়ে বড় গল্পটায় রয়েছে ৩২০০০ শব্দ!   শব্দের সংখ্যসংক্রান্ত এই জটিলতা দূর করার জন্য অনেক সাহিত্য বিশ্লেষকের ...